লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

সৌদি আরবে নারী কর্মীদের সুরক্ষা কতটা আছে

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 22 অক্টোবর 2026, 01:36 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 55 বার পঠিত
সৌদি আরবে নারী কর্মীদের সুরক্ষা কতটা আছে
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যার ১ লাখ ২০ হাজারই গেছেন সৌদি আরবে। তবে শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন ও বেতন না পাওয়ার কারণে শুধু সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন, যার প্রায় এক হাজারই সৌদি আরবফেরত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপর্যাপ্ত চুক্তি ও সুরক্ষার অভাবে এই সংকট কাটছে না।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া ১ লাখ ৭২ হাজার নারী কর্মীর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারই গেছেন সৌদি আরবে।
  • চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে শুধু সৌদি আরব থেকেই ফিরেছেন প্রায় এক হাজার নারী।
  • বেসরকারি সংস্থা ওকাপের গবেষণা অনুযায়ী, বিদেশফেরত নারী কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ থেকে গত দুই বছরে বিদেশগামী নারী কর্মীদের একটি বড় অংশই পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন। এর মধ্যে একাই সৌদি আরবে গেছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নারী কর্মী। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জর্ডানে যাওয়া নারীর সংখ্যা এর তুলনায় তিন ভাগের একভাগের চেয়েও কম। তবে এত বিপুল সংখ্যক নারী কর্মী সৌদি আরব গেলেও তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে দেড় হাজারের বেশি নারী কর্মী নানা প্রতিকূলতার মুখে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরব থেকেই ফিরেছেন প্রায় এক হাজার নারী। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)-এর চেয়ারপার্সন শাকিরুল ইসলাম জানান, তাদের গত বছরের জুলাই মাসের গবেষণায় দেখা গেছে, ফিরে আসা নারী কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত বেতন না পাওয়া এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাও frecuentes।

সৌদি আরব সরকার ভিশন ২০৩০-এর আওতায় শ্রম আইনে কিছু সংস্কার আনলেও বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নির্যাতন থামেনি। ডিসেম্বরে সৌদি প্রেস এজেন্সি প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়, চুক্তির বাইরে কোনো কাজ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করা নিষিদ্ধ। তবে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মূল গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তিতে কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। তার মতে, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই গ্রাম থেকে সহজ-সরল নারীদের সৌদিতে পাঠানো এবং চুক্তিতে সুরক্ষার ফাঁকফোকড় থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও কঠোর মনিটরিং না থাকলে নারী শ্রমিকদের এই দুরবস্থা নিরসন করা সম্ভব নয়। নামমাত্র বেতনে বা কম সুযোগ-সুবিধায় অদক্ষ কর্মী পাঠানোর যে ধারা চলে আসছে, তা সংশোধন করে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় অবদান রাখা এই নারী শ্রমিকদের জীবন ও সম্মান ঝুঁকির মুখেই থেকে যাবে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ