যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই ও ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, কুশনারের জন্য শত কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ ছিল। তবে কুশনার ও তার আইনজীবী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন ও লেখক ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই 'প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস'-এ দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আমিরাত ও আজারবাইজানের ব্যাংকের মাধ্যমে কুশনারের জন্য অন্তত ২০০ কোটি ডলারের গোপন তহবিল রাখা হয়েছিল।
- প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের তদারকিতে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৭৫ কোটি ডলার স্থানান্তরিত হয় এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু অর্থ জমা রাখার পরামর্শ দেন।
- অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জ্যারেড কুশনার ও তার আইনজীবী চ্যাড মিজেল এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, কল্পিত ও মানহানিকর অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন এবং এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে গোপন আর্থিক লেনদেনের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক ও লেখক ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই 'প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট'-এর বরাতে প্রভাবশালী মার্কিন ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের আইফোনে নজরদারি চালিয়ে আমিরাত-সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার প্রবেশাধিকার দেখতে পান।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত দাতব্য সংস্থা 'ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন'-এর নামে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। কুশনার ওই অ্যাকাউন্টের সরাসরি মালিক না হলেও তার অর্থ ব্যবহারের সুযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়। এছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে কুশনারের জন্য দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি ডলার রেখেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আরও ১০০ কোটি ডলার স্থানান্তরের আরেকটি অ্যাকাউন্টের কথাও এতে বলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করেছেন ৪৫ বছর বয়সী জ্যারেড কুশনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিবেদনকে 'কল্পনা, রূপকথা ও অপপ্রচারের সংমিশ্রণ' বলে আখ্যায়িত করেন। কুশনার জানান, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি অত্যন্ত নিবিড় নজরদারির মধ্যে ছিলেন এবং বিভিন্ন তদন্তে স্বেচ্ছায় ৩০ ঘণ্টার বেশি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তখন কখনো এ ধরনের তথ্য সামনে আসেনি। কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে জানান, বাস্তবে এ ধরনের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্বই নেই এবং আইনি পদক্ষেপের সব পথ খোলা রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ভূরাজনৈতিক প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অনানুষ্ঠানিক দায়িত্বে থাকায় এই নতুন অভিযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাংক বিবরণী বা আইনি প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের মনগড়া তথ্য প্রকাশের ফলে সাংবাদিকতার নীতি ও অপপ্রচারের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।