ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি নীতির প্রতিবাদে শনিবার ১ লাখ ১০ হাজার মানুষসহ লাখো মানুষ রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন। সহিংসতা রোধে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মার্সেই ও লিওঁতে সংঘর্ষে ১৩৫ জনকে আটক করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ কড়াকড়ির কথা জানান এবং বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত এই বিক্ষোভে শুধু রাজধানী প্যারিসেই ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন এবং দেশব্যাপী অন্তত ১৩৫ জনকে আটক করা হয়।
- সহিংসতা ও গত সপ্তাহের লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজের নির্দেশে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন করা হয়।
- বিক্ষোভের জেরে প্যারিসের ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন এবং লুভর জাদুঘর ও মুসে দর্সেসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও সরকারি নীতির প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ মোকাবেলায় শুক্রবার দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য ও বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা দলে দলে রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় নেমেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে শুধুমাত্র রাজধানীতেই ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেয়।
মার্সেই এবং লিওঁ শহরে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। লিওঁতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ করার চেষ্টাকালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং নিস শহরে জলকামান ব্যবহার করে। বিভিন্ন নগরীতে চলা বিক্ষোভে অন্তত ১৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। প্যারিসসহ মন্টপেলিয়ার, রুয়া ও নিসের মতো শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ওর্লেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করেও বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ অংশ নেয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানিয়েছেন, গত ১৭ অক্টোবরের তুলনায় এবার ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়। আগের সপ্তাহে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়েছিল। প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় শনিবার কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং নগরী লকডাউনের মতো অবস্থায় থাকে। ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং লুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে ও প্যারিস অপেরাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। তিনি বিক্ষোভকারীদের সংযমের প্রশংসা করে বলেন, ফ্রান্সের সংকট সমাধানে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন চলবে। উল্লেখ্য, আগামী ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল ও ২ মে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এই বিক্ষোভ দেশটির রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।