সৌদি আরবের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট পুনরায় স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর ফলে ঢাকা থেকে প্রায় ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ২৫৪ জন প্রবাসী যাত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
- ফ্লাইটগুলো বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় ঢাকা থেকে যাতায়াতকারী মোট ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে মোট ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত স্থাপনায় হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যাত্রীদের জীবনঝুঁকি এড়াতে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এই আকস্মিক ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী প্রবাসী কর্মী এবং ওমরাহ যাত্রীরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই জটিলতার কারণে ঢাকা থেকে মোট ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কতৃর্পক্ষ। এর সরাসরি প্রভাবে প্রায় ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রীর ভ্রমণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যারা ইতোমধ্যে টিকিট কেটে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের কাছে সর্বাগ্রে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই স্থগিত থাকা ফ্লাইটগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া কিংবা পরবর্তীতে বিনা মূল্যে আসন পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই সংকটের ফলে দেশের শ্রমবাজার এবং প্রবাসীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। বিশেষ করে যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ বা আকামার সময়সীমা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তাদের কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে এই আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।