ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এডেনে সৌদি সামরিক বহরে হুুতির হামলার দাবি এবং সৌদির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণার পরপরই এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয়। এদিকে তাইজ শহরে হুতিদের অবরোধের ফলে তীব্র খাদ্য ও পানি সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ৮ লাখ মানুষ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
- এডেনে সৌদি সামরিক বহরে হামলার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা এবং সৌদির পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- হুতিদের কঠোর অবরোধের কারণে কৌশলগত তাইজ শহরে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য ও পানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশের বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের তীব্র বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এডেন বন্দরে সৌদি সামরিক বহরের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের হামলার দাবির ঠিক পরপরই এই বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে সৌদির পক্ষ থেকে হুতিদের ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যার পরেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তাইজ শহরকে ঘিরে হুতি বিদ্রোহীদের কঠোর অবরোধের ফলে শহরটিতে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। অবরুদ্ধ এই জনপদের প্রায় ৮ লাখ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকট ও সুপেয় পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে লড়াইয়ের তীব্রতা কমেনি, বরং বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এডেনে সামরিক বহরে হামলা এবং পরবর্তীতে সৌদির বিমান আক্রমণ ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহের পথ বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র হাহাকার। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র ঘাটতি রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি না করলে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের মতো ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।