ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে জিডিটি করা হলেও বিষয়টি শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসে। ওসির সঙ্গে যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে থানায় যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বাগ্বিতণ্ডার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে।
- ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ৭টা ১৫ মিনিটে এমপি রুমিন ফারহানা কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ফোনে সাড়া না দেওয়া ও নিরাপত্তার ঘাটতির অভিযোগ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড, ৫৭ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের তিনটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং ওসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন মহলে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। তবে বিষয়টি শুক্রবার সন্ধ্যার পর জনসমক্ষে এলে স্থানীয় রাজনীতি ও পুলিশ প্রশাসন মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার দিন সংসদ সদস্যের সঙ্গে থানায় প্রবেশকারী ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির পেশাগত যোগাযোগ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। তাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া কোনো সাড়া দেননি। এমনকি সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এই ক্ষোভ থেকেই গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় সশরীরে উপস্থিত হন রুমিন ফারহানা।
থানার ভেতরে ওসির কক্ষে উপস্থিতির পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে তাত্ত্বিক ও উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুতই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রূপ নেয়। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, যার মধ্যে ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড, ৫৭ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের তিনটি ভিডিও বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। রুমিন ফারহানার ভাষ্য অনুযায়ী, ওসির বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তারিখ ও বিবরণ সম্বলিত দুই পৃষ্ঠার একটি লিখিত তালিকা নিয়ে তিনি থানায় আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে ওসির পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ওসির বিরুদ্ধে আনীত নানা অনিয়ম ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পুলিশের উচ্চপদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আকারে জানানোর প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন আইনপ্রণেতা এবং থানার ওসির মধ্যকার এই প্রকাশ্য বিরোধ ও জিডির ঘটনা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ-জনপ্রতিনিধি সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।