লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

সরেজমিন: সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে কী?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 30 অক্টোবর 2026, 08:37 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 76 বার পঠিত
সরেজমিন: সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে কী?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট থেকে মাচালং এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের অবস্থানকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর ডাকে টানা অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাত। ২২ অক্টোবর পর্যটক প্রত্যাবর্তনের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • সাজেক ভ্যালিতে দৈনিক পাঁচ শতাধিক জিপ চলাচল করে এবং দেড় শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয় যা বর্তমান অস্থিরতায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
  • সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট থেকে মাচালং এলাকায় অস্ত্রধারী জেএসএস গ্রুপ অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে।
  • খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, একটি অবৈধ সশস্ত্র গ্রুপকে হটিয়ে আরেকটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জেরে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের পক্ষে না গিয়ে সব অবৈধ অস্ত্রধারীকে হটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন স্পট সাজেকে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র তৎপরতার জেরে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে টানা অবরোধের কারণে সাজেকে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সংকট নিরসনে দ্রুত কোনো সমাধান না আসায় সাজেকের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাচালং এলাকায় অস্ত্রধারী গ্রুপের উপস্থিতি এবং তা নিয়ে স্থানীয়দের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সাজেকের এই সংকটের মূলে রয়েছে মূলত পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ। সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সীমানায় অবস্থিত হলেও সেখানে সড়কপথে খাগড়াছড়ি হয়ে যাতায়াত করতে হয়। খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক জিপ যাত্রী ও পণ্য নিয়ে চলাচল করে এবং সাজেকে দেড় শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। পর্যটন, কৃষি ও পরিবহন খাত মিলিয়ে এই অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়। পাহাড়ি সংগঠনগুলোর চাঁদা তোলার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে ওপেন সিক্রেট হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এক সশস্ত্র গ্রুপ অন্য গ্রুপকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সংঘাত চরম আকার ধারণ করে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন মত রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর সাজেক থেকে তিন হাজার পর্যটককে ফিরিয়ে আনার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আইএসপিআর-এর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রধারীরা ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। অন্যদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলে, যা পরে পাঁচ দফা দাবিতে রূপ নেয়। স্থানীয়দের একটি বড় অংশ ভয়ের পরিবেশের কারণে স্বাধীনভাবে মুখ খুলতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না।

সরকার ও রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, একটি অবৈধ সশস্ত্র গ্রুপের দাবি মেনে অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার সাজেক এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিতাড়িত করে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চায়। তবে পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অবরোধ ও সংঘাতের এই ক্ষত কাটিয়ে সাজেকের স্বাভাবিক পর্যটন পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ