রাওয়ালপিণ্ডিতে ওয়ানডে ট্রাই সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানের পাহাড় টপকে ২ উইকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। হ্যারি ব্রুকের ২০২ রানের ইনিংস সত্ত্বেও পবন রত্নায়েকের ১৩০ এবং লিয়ানাগের শেষ মুহূর্তের ছক্কায় ৪৯.৫ ওভারে ৪৩০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা। এটি ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে ৪৩০ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার এই জয়টি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া; এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রান তাড়া করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
- ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাত্র ১১৬ বলে ২০২ রানের বিধ্বংসী দ্বিশতরান করলেও পবন রত্নায়েকের ১৩০ এবং দাসুন শনাকা ও আবিষ্কা ফার্নান্দোর জোড়া ৯৭ রানের ইনিংসে ম্লান হয়ে যায় সেই কীর্তি।
- জয়ের জন্য শেষ ২ বলে ৬ রান প্রয়োজন থাকাকালীন জশ টাংকে ছক্কা মেরে এক বল বাকি থাকতেই শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন জানিথ লিয়ানাগে, যিনি ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাওয়ালপিণ্ডির মাঠে ওয়ানডে ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস লিখল শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ২ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করার এই ম্যাচে জয়ের নায়ক পবন রত্নায়েকে, যিনি ১৩০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। শেষ ওভারে নাটকীয় মোড় নিলেও জানিথ লিয়ানাগের ছক্কায় এক বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন এক উচ্চতা স্পর্শ করল।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের পাহাড় গড়ে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাত্র ১১৬ বলে ২০২ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। আবিষ্কা ফার্নান্দো ও দাসুন শনাকা উভয়েই ৯৭ রান করে আউট হলেও জয়ের শক্ত ভিত গড়ে দেন। এটি গত দুই দশকের মধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ইংলিশ বোলার জশ টাং প্রথম চার বলে মাত্র ২ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিলে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের দিকে হেলে পড়ে। তবে পঞ্চম বলে স্ট্রাইক পেয়েই জানিথ লিয়ানাগে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৩০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। লিয়ানাগে ৬১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। জশ টাং শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করলেও লঙ্কান ব্যাটারদের দৃঢ়তার কাছে হার মানতে বাধ্য হয় ইংল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওয়ানডে ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। এর আগে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৩৫ রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০৬ রান তাড়া করে জয়ের পর এক মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বার ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করার নজির। এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং গভীরতার নতুন বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাই সিরিজে তাদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।