৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও দেশের ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাব হাতে-কলমে করার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেও এই সুবিধা দেওয়া কঠিন হতে পারে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের পরিপত্র জারি করলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
- মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা পৌনে দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন হিসাব হাতে-কলমে করতে হয়, যা পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার প্রধান কারণ।
- বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে মোট ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের পরিপত্র জারি করলেও, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে এই সুবিধা পাবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গেই জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে বিলম্ব হওয়ার অন্যতম কারণ হলো মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাবের জটিল পদ্ধতি। স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কম্পিউটারের মাধ্যমে হিসাব করা হলেও মাদ্রাসার জনবলের বেতনের হিসাব এখনো হাতে-কলমে করতে হয়। এই ম্যানুয়াল বা হাতে-কলমে হিসাব সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে।
অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে প্রক্রিয়াগত জটিলতায় তা আরও পেছাতে পারে। মাদ্রাসার জনবল বাদ দিয়ে শুধু স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের আগে বেতন দেওয়া সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় এক হওয়ায় সবাইকে একসঙ্গে রেখেই নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও সুবিধার আওতায় কর্মরত আছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল শিক্ষকদের দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোয় আনতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার শিক্ষা সংবাদ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।