সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: পরওয়ার
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক বা ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে ৫০ করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি একে দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান অর্থাৎ ৫০ করে নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
- মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে মেধার মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন।
- জামায়াতে ইসলামী অনিয়ম রোধে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর ৫০-এ উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী এবং ‘নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তন মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
বর্তমানে সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালায় যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একজন প্রার্থীর জ্ঞান ও বিশ্লেষণী সক্ষমতা বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়, যার উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকে। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে নিয়োগ বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা অতীতে বিভিন্ন সময়ে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, প্রক্সি বা জালিয়াতি রোধের অজুহাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনো টেকসই সমাধান নয়। এর পরিবর্তে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতি, বায়োমেট্রিক যাচাই, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুরোনো দলীয়করণের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হলে তা সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন ঘটাবে।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলছেন, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিধিমালা জনগণ মেনে নেবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।