লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন, পচন ধরে মরদেহে

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 23 অক্টোবর 2026, 04:20 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 56 বার পঠিত
স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন, পচন ধরে মরদেহে
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশের নদীগুলোতে গত পাঁচ বছরে মোট ২ হাজার ৬৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা অপরাধ লুকিয়ে লাশ গুম করার এক ভয়ংকর চিত্র ফুটিয়ে তোলে। দেশের প্রধান নদীগুলো খুন বা অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের মরদেহ ফেলার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ অপরাধের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন নদী থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক মোট ২ হাজার ৬৪টি অজ্ঞাত ও পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
  • নদীমাতৃক বাংলাদেশে অপরাধীরা খুন বা অন্যান্য অপরাধের পর আলামত নষ্ট ও লাশ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ স্রোতে ফেলে দিচ্ছে।
  • লাশগুলোর দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় পচন ধরা এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ডিএনএ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের প্রকৃত রহস্য ও খুনিদের শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোতে গত পাঁচ বছরে ২ হাজার ৬৪টি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা অপরাধ বিজ্ঞান ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, বিশেষ করে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং বুড়িগঙ্গার তীর ও স্রোত থেকে নিয়মিতভাবেই এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের পর নিজেদের রক্ষা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নদীকে লাশ গুম করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে। নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে অনেক সময় অপরাধের কোনো চিহ্ন বা আলামত অবশিষ্ট থাকে না।

বিশ্লেষকদের মতে, নদীপথের ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবের সুযোগ নিয়ে অপরাধ চক্রগুলো এই নির্মম পথ বেছে নেয়। দীর্ঘ সময় মৃতদেহ পানির নিচে বা ভাসমান অবস্থায় থাকায় চামড়া ও মাংস পচে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে অনেক মরদেহের প্রাথমিক পরিচয় বা সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা দুরূহ হয়ে পড়ে। পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহের একটি বড় অংশের পরিচয় শেষ পর্যন্ত মেলানো সম্ভব হয় না, যার ফলে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে হয়।

মানবাধিকার কর্মী ও অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীগুলোতে নিয়মিত টহল না থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ঘাটতি অপরাধীদের এমন বেপরোয়া করে তুলেছে। এছাড়া নৌপুলিশের আধুনিক প্রযুক্তি ও জনবলের অভাবও অপরাধের সঠিক তদন্তে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অনেক সময় নিখোঁজ ডায়েরি করার পরও স্বজনেরা নদীর বুকে ভাসমান মরদেহের মাঝে তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে ফেরেন, যা এক নির্মম মানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।

এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে নদীবন্দরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত নৌটহল জোরদার এবং আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে নদীপথে লাশ গুম করার এই প্রবণতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দ্রুত আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সাধনের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ