৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। ছোট কাটারা এলাকার ওই ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় প্লাস্টিক পণ্য ও কসমেটিকসের গুদামে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। সরু রাস্তা, পানির সংকট ও তালাবদ্ধ গুদামের কারণে ধোঁয়ায় চার কর্মী অসুস্থ হন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকার মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস এবং দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
- আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় অংশ নিতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া চার কর্মীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
- ভবনটির ষষ্ঠ তলার ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদামের মধ্যে প্লাস্টিক পণ্য, ব্যাগ, কসমেটিকস ও আতর সমৃদ্ধ ৭-৮টি গুদাম আগুনে পুড়ে যায় এবং ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আবারও পুরোনো ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের করুণ চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে ছোট কাটারা এলাকার এই বহুতল ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইউনিট বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১০টি ইউনিট দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গুদামে মজুত থাকা প্লাস্টিক ও দাহ্য পদার্থের কারণে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোপুরি নির্বাপণ কাজ চালাতে হয়।
পুরান ঢাকার সরু অলি-গলি, গিঞ্জি পরিবেশ এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কাজের জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বড় ও ভারী অগ্নিনির্বাপণ গাড়িগুলো ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলার গুদামগুলোতে বহুমুখী তালা ঝুলানো থাকায় এবং ভেতরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা ধোঁয়া বের হওয়ার পথ না থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে শাটারে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। গুদামে প্লাস্টিক ব্যাগ ও কসমেটিকস থাকায় পানি দেওয়ার পর তা পুড়ে শক্ত হয়ে যায়, যা আগুন নেভানোর কাজকে আরও দীর্ঘায়িত করে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত চারজন কর্মী অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপমাত্রার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাছাড়া আশপাশে কোনো প্রাকৃতিক জলাশয় বা পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আশপাশের বিভিন্ন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার থেকে পাইপ টেনে পানি সংগ্রহ করতে হয় ফায়ার কর্মীদের। ষষ্ঠ তলার ১২ থেকে ১৪টি গুদামের মধ্যে অন্তত ৭-৮টি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে। বহু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাদের দোকান ও গুদামে থাকা লেদার, ব্যাগ, আতর এবং কসমেটিকসসহ কোটি কোটি টাকার মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কেউ কেউ ঘটনার ঠিক আগের দিনই নতুন পণ্য তুলেছিলেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের দাহ্য পণ্যের গুদাম ও অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে কঠোর তদারকির দাবি উঠেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।