নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রের নতুন কূপে দৈনিক ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি বাপেক্স জানিয়েছে, এই কূপ থেকে অন্তত ২০ বছর একটানা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কূপটিতে প্রায় ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে প্রাথমিক মূল্যায়নে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রে নতুন কূপে আনুমানিক ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিশাল মজুত নিশ্চিত করেছে বাপেক্স।
- নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
- উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হলে এই কূপ থেকে একটানা দীর্ঘ ২০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের জ্বালানি খাতের জন্য এক নতুন আশার বার্তা নিয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রের নতুন একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি বাপেক্সের নিবিড় ভূগর্ভস্থ জরিপ ও খনন কাজের ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন এই কূপটিতে প্রায় ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিপুল মজুত রয়েছে, যা দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদাপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে এই কূপটিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রিলিং বা খনন কাজ চালানো হয়। নির্দিষ্ট ভূ-স্তরে পৌঁছানোর পর গ্যাসের উপস্থিতির নিশ্চিত প্রমাণ মেলে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের চাপ ও মজুতের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। দেশের স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই কূপ খনন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০ বছর ধরে এই কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস তোলা যাবে। এর ফলে স্থানীয় শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার আরও উন্নতি ঘটবে এবং আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎসের সন্ধান পাওয়া দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি পেলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব শীঘ্রই এই কূপ থেকে সুনির্দিষ্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।