সাতক্ষীরার সুন্দরবন অঞ্চলে অস্ত্রধারী দস্যুদের দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বনজীবীদের অভিযোগ, সরকারি অনুমতির বাইরেও জঙ্গলে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দস্যু বাহিনীকে ৭০ হাজার থেকে এক লক্ষ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮টি নতুন দস্যু বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার বনজীবী সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, যারা বর্তমানে দস্যুদের চাঁদাবাজির শিকার।
- জঙ্গলে প্রবেশের জন্য ব্যাংক নোটের নম্বরকে পাস বা কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে দস্যুরা, যেখানে ৫ বা ১০ টাকার নোটের জন্য ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
- নিরাপত্তাহীনতা ও চরম আতঙ্কের প্রতিবাদে এবং বনদস্যু দমনের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে 'বনদস্যু নির্মূল কমিটির' ব্যানারে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন এলাকায় অস্ত্রধারী বনদস্যুদের তৎপরতা ও চাঁদাবাজি চরম আকার ধারণ করেছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, জীবন-জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হলে এখন সরকারি অনুমতির পাশাপাশি দস্যু বাহিনীকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারী শিথিল হওয়ার সুযোগে প্রায় ৭ থেকে ৮টি নতুন ও পুরনো দস্যু বাহিনী সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
স্থানীয় জেলে ও কাঁকড়া শিকারিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে যাতায়াতের জন্য দস্যুরা ব্যাংক নোটের নম্বরকে পাস হিসেবে ব্যবহার করছে। এককালীন তিন মাসের জন্য পাঁচ টাকার নোটের কার্ড নিতে ৭০ হাজার টাকা এবং দশ টাকার নোটের কার্ডের জন্য এক লাখ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। এই কার্ড বা নির্দিষ্ট নোট দেখাতে ব্যর্থ হলে বনজীবীদের জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন এবং লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। ঋণগ্রস্ত ও দরিদ্র বনজীবীরা বারবার দস্যুদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
পরিস্থিতি এতটাই অবনতি হয়েছে যে, গাবুরা ইউনিয়নের বহু জেলে ও বনজীবী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়ে জঙ্গলে যেতে পারছেন না। এর ফলে তাদের পরিবারে তীব্র খাদ্য সংকট ও আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, অতীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ (র্যাব) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযانের ফলে দস্যুরা অনেকটা দমে গেলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা নতুন করে সংগঠিত হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকাতেও তাদের সহযোগী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এই নৈরাজ্য ও শঙ্কার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সাতক্ষীরা অঞ্চলের বনজীবীরা সম্প্রতি 'বনদস্যু নির্মূল কমিটির' ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অবিলম্বে সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা এবং বনজীবীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।