পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় রাজ্যের রাজস্ব আদায় ৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাচার হওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে এবং সিন্ডিকেটরাজ নির্মূল করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা তিনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন।
- রাজ্যের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে; ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- নতুন শিল্পনীতি অনুযায়ী, সরকার জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে জমি কিনে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি করবে এবং শিল্পপতিদের হাতে তা হস্তান্তর করবে, পাশাপাশি অব্যবহৃত জমি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছেন। এই নতুন নীতিতে শিল্পায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে জমি নীতিহীনতাকে চিহ্নিত করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কোনো সুনির্দিষ্ট জমি নীতি না থাকায় শিল্প নীতি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার সরকার জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে জমি কিনে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির মাধ্যমে শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত করবে।
শিল্পায়নের পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক অবস্থার ওপর আলোকপাত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে রাজ্যের রাজস্ব আদায় ৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে তিনি সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি এবং তোলাবাজিকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিগত শাসনামলে শিল্প সম্মেলনের নামে লোক দেখানো আয়োজন হলেও বাস্তবে বিনিয়োগ আসেনি, বরং রাজ্যের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে বলেন, “২০ হাজার কোটির বেশি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, পাঁচ বছরের মধ্যে এই টাকা ফিরিয়ে আনব।” তিনি ‘না খাব, না খেতে দেব’—এই নীতিতে অটল থেকে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এছাড়া, সিঙ্গুরে পড়ে থাকা জমি এবং শিল্পপতিদের হাতে থাকা অব্যবহৃত জমি ফেরত নেওয়ার বিষয়েও সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন শিল্পনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজ্যের শিল্প খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত শিল্প পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।