ভারতের ১২৫ সিসি স্কুটার বাজারে হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ এবং সুজুকি অ্যাক্সেস ১২৫ এর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। সুজুকির ওজন ৬ কেজি কম এবং মাইলেজ কিছুটা বেশি হলেও, হোন্ডা শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক ও উচ্চ রিসেল ভ্যালুর জন্য এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাক্টিভা ২.৬ লাখ ইউনিট এবং অ্যাক্সেস ৭২,৬৫৮ ইউনিট বিক্রি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৬ সালের মার্চ মাসে হোন্ডা অ্যাক্টিভা সিরিজের প্রায় ২.৬ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে, যেখানে সুজুকি অ্যাক্সেস বিক্রি হয়েছে ৭২,৬৫৮টি।
- সুজুকি অ্যাক্সেস ১২৫ শহরে প্রতি লিটারে ৪৫-৫০ কিমি এবং হাইওয়েতে ৫০-৫৩ কিমি মাইলেজ দেয়, যা হোন্ডা অ্যাক্টিভার তুলনায় সামান্য বেশি।
- হন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ এর বিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং ৩-৪ বছর পর ভালো রিসেল ভ্যালু রয়েছে, তবে অ্যাক্সেসের ওজন ৬ কেজি কম হওয়ায় এর পিক-আপ দ্রুত।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের ১২৫ সিসি স্কুটার বাজারে শীর্ষস্থান দখল করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মডেল—সুজুকি অ্যাক্সেস ১২৫ এবং হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫। দৈনন্দিন যাতায়াত এবং নতুন ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে এই স্কুটার দুটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। উভয় স্কুটারেই রয়েছে এয়ার-কুলড, ফুয়েল-ইনজেক্টেড সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন ও সিভিটি গিয়ারবক্স, যা চালকদের স্মুথ রাইডিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
প্রযুক্তিগত ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে দুটি স্কুটারে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। হোন্ডা অ্যাক্টিভার তুলনায় সুজুকি অ্যাক্সেসের ওজন প্রায় ৬ কেজি কম হওয়ায় সিগন্যাল বা শহরের যানজটে এর পিক-আপ বেশ দ্রুত। অন্যদিকে, ৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টা বেগে হন্ডার ইঞ্জিন অত্যন্ত মসৃণ রাইড প্রদান করে। মাইলেজের ক্ষেত্রে সুজুকি অ্যাক্সেস শহরে ৪৫-৫০ কিমি এবং হাইওয়েতে ৫০-৫৩ কিমি প্রতি লিটার দেয়, যা অ্যাক্টিভার চেয়ে সামান্য বেশি এবং এতে মাসে প্রায় ১৪৩ টাকা জ্বালানি সাশ্রয় হয়। ফুল ট্যাঙ্কে দুটি স্কুটারই প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
বিক্রয় ও বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইকদেখোর রিপোর্ট বলছে—২০২৬ সালের মার্চ মাসে হোন্ডা অ্যাক্টিভা সিরিজের প্রায় ২.৬ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে, বিপরীতে সুজুকি অ্যাক্সেস বিক্রি হয়েছে ৭২,৬৫৮ ইউনিট। মেইনটেন্যান্সের ক্ষেত্রে প্রথম ১০,০০০ কিলোমিটার চালানোর পর উভয় স্কুটারের সার্ভিসিং খরচ ৩,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে হোন্ডার পার্টসের দাম কিছুটা কম এবং এর দেশব্যাপী বিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দেয়। এছাড়া ৩ বছর বা তার বেশি সময় ব্যবহারের পর বিক্রি করতে গেলে অ্যাক্টিভার রিসেল ভ্যালু অ্যাক্সেসের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
সামগ্রic মূল্যায়নে দেখা যায়, যারা হালকা ওজন, বেশি বুট স্পেস এবং সামান্য বেশি মাইলেজ চান, তাদের জন্য সুজুকি অ্যাক্সেস ১২৫ আদর্শ। পক্ষান্তরে, উন্নত সার্ভিস নেটওয়ার্ক, আধুনিক কি-লেস ফিচার এবং শক্তিশালী রিসেল ভ্যালুর প্রত্যাশীদের জন্য হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ একটি নিখুঁত পছন্দ। ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিভিএস জুপিটার ১২৫ বা হোন্ডা ডিও ১২৫-এর মতো বিকল্পগুলোও বিবেচনা করতে পারেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।