দেশের বাজারে টানা তিন দফায় কমার পর বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ভরিতে ৩৪ হাজার টাকা দাম কমলেও দেশের বাজারে কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ বার দাম পরিবর্তন করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫৮৫৮ ডলার থেকে কমে ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে নেমে এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ভরিতে ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৮ বার সোনার দাম পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে ১৩ বার কমানো হয়েছে এবং ৫ বার বাড়ানো হয়েছে।
- বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। গত ২৫ আগস্ট ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। অর্থাৎ এই দুই মাসে দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাব অনুযায়ী এই সময়ে ভরিতে দাম কমার কথা ছিল ৩৪ হাজার টাকারও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের বাজারের এই দামের ব্যবধান নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে গত ২৫ আগস্ট প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ ডলার, যা কমে বর্তমানে ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে ঠেকেছে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্সে দাম কমেছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, যার প্রভাব পড়ার কথা ছিল স্থানীয় বাজারে। তবে বাজুস স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেট বা তেজাবী স্বর্ণের দামের ওপর ভিত্তি করে এবং আমদানি খরচ ও আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে দাম সমন্বয় করায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে হুবহু মিল থাকে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্বর্ণের বাজারে দাম কিছুটা কমলেও রুপার বাজারে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ভরিতে ৭৫৭ টাকার মতো কমলেও বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। স্থানীয় বাজারে রুপার এই দাম হ্রাসের ফলে ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি মিললেও স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের এই দামের ব্যবধান প্রসঙ্গে বাজুস সভাপতি এনামুল হক দোলন দাবি করেছেন যে, বাজারে যতটুকু দাম কমেছে, দেশের বাজারেও ঠিক সে অনুপাতেই দাম কমানো হয়েছে। তবে দুই হিসাবের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সাংবাদিকদের বাজুস কার্যালয়ে এসে সুনির্দিষ্ট হিসাব দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ ও ক্রেতারা মনে করছেন, গহনা খাতের বাজারে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।