রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১৩ অক্টোবর আদালত তাকেসহ আটজনকে এই সাজা দিয়েছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার দুর্নীতির মামলায় গত ১৩ অক্টোবর পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলসহ আটজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
- রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন ও কারাগারে ডিভিশন প্রার্থনা করেন শওকত আজিজ রাসেল, যা আদালত শুনানির পর নাকচ করে দেন।
- মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ ছয় সাবেক কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে নেওয়া সেক্টর-০১ এর দুটি প্লট রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তিনি। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত আলোচিত এই দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শওকত আজিজ রাসেল ও তার ভাই আশফাক আজিজ রুবেলসহ মোট আটজনকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি পূর্বাচলে তাদের নামে বরাদ্দকৃত ২০ কাঠা জমি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুদক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন জানান, আসামিপক্ষ থেকে আপিলের শর্তে জামিন ও কারাগারে ডিভিশন চাওয়া হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক এবং মো. রেজাউল করিম তরফদার। আদালত তাদের প্রত্যেককেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল প্রকল্পে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এই রায় এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির কারাগারে যাওয়ার ঘটনা দেশের দুর্নীতি দমন ও বিচারালয়ের কার্যক্রমে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।