বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার নেপথ্যে ছিল সুপরিকল্পিত কিলিং মিশন। গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের পুষ্প নার্সি পার্কের কাছে ফুটবল খেলে ফেরার সময় তার গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দশজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে এনক্রিপ্টেড চ্যাট ও 'ডেড লেটার বক্স' ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের পুষ্প নার্সি পার্কের কাছে ফুটবল খেলে ফেরার সময় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
- তদন্তে নেমে মুম্বাই পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং জানতে পেরেছে যে হামলায় কুণাল ও সুমিত অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন।
- অস্ত্র সরবরাহের জন্য 'ডেড লেটার বক্স' পদ্ধতি ও এনক্রিপ্টেড চ্যাট ব্যবহার করা হয়, যেখানে কুণালকে অস্ত্র পরিবহণের জন্য ৭০-৮০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং বহনকাজে দুই নারীকে নিয়োজিত করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার নেপথ্যে ছিল একটি নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত কিলিং মিশন। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের পুষ্প নার্সি পার্কের কাছে ফুটবল খেলা শেষে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় তার ওপর এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে সাত রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতোমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মুম্বাই পুলিশের নিবিড় তদন্তে এই হামলার পেছনে একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দশজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করতে ‘ডেড লেটার বক্স’ নামক অভিনব কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে সরাসরি সাক্ষাতের প্রয়োজন হয় না; নির্দিষ্ট স্থানে জিনিস রেখে যাওয়ার পর অন্য ব্যক্তি গিয়ে তা সংগ্রহ করেন। কুণাল ও সুমিত নামের দুই অভিযুক্ত অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মুম্বাইয়ে পৌঁছে দিয়েছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র পরিবহণ ও পুরো মিশনে কুণাল ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ বজায় ছিল। অস্ত্র পরিবহণের খরচ হিসেবে কুণালকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে রাধা ও ববিতা নামের দুই নারীকে অস্ত্র বহনের কাজে ব্যবহারের জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার রুপি দেওয়া হয়। এছাড়া, শুধু টাইগার শ্রফ একা নন, এই অপরাধ চক্রের হিটলিস্টে আরও তিনজন বলিউড সুপারস্টার নজরদারিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর বলিউড অঙ্গনে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড বা সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে এই কিলিং মিশনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মুম্বাই পুলিশের ধারণা, এটি নিছক কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং একটি বড় অপরাধ সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত নাশকতামূলক কার্যক্রমের অংশ, যার শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।