৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। মূলত সরকারি খাতের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঋণস্থিতি বেড়েছে। এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।
- মাত্র তিন মাসে অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে সরকারের বিদেশি ঋণ ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিদেশি বিনিয়োগে প্রত্যাশিত গতি না থাকলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বাড়ছে বিদেশি ঋণের পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে ২০২৫ সালে এই পরিমাণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। মূলত সরকারি খাতের দায় বৃদ্ধির ফলেই সামগ্রিক বিদেশি ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা জুন শেষে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে কিছুটা কমে ১৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামাও ঋণস্থিতি বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, উৎপাদনশীল খাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে বিদেশি ঋণ কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। তবে ঋণের অর্থ কার্যকরভাবে কাজে না লাগলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ মারাত্মকভাবে বাড়বে। বিশেষ করে রপ্তানি আয় ও প্রবাস আয় যদি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি না পায়, তবে ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের প্রান্তিক থেকে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। বিনিয়োগের এই মন্থর গতি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতার প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা বিদেশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।