মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৬তম সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দ্রুততম সময়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সভায় মালিকপক্ষের প্রতিনিধি তালিকা পাওয়ার কথা জানানো হয় এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত টিসিসির ৯৬তম এবং আরএমজি টিসিসির ২৫তম সভায় দ্রুত নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়।
- শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালিকপক্ষকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের কঠোর নির্দেশ দেন এবং জনভোগান্তি এড়ানোর আহ্বান জানান।
- সভায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম এবং শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার ও রাজেকুজ্জামান রতন উপস্থিত থেকে শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৯৬তম সভা এবং আরএমজি বিষয়ক টিসিসির ২৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিমসহ মালিক ও শ্রমিকপক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল তৈরি পোশাক শিল্পখাতের চলমান শ্রম অসন্তোষ এবং নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন। শ্রমমন্ত্রী জানান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মালিকপক্ষ থেকে প্রতিনিধি তালিকা পাওয়া গেছে। শ্রমিকপক্ষ থেকে তালিকা পাওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। গাজীপুর ও কালিয়াকৈরের সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক, তবে আন্দোলনের নামে পথ রোধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
চলমান অস্থিরতা রোধে মন্ত্রী মালিকপক্ষকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে বা অশুভ উদ্দেশ্যে কেউ বিশৃঙ্খলা পাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার ও রাজেকুজ্জামান রতন বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কারখানা ভাঙচুর থেকে বিরত থাকতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন।
এই ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতের চলমান সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সময়মতো মজুরি পরিশোধ এবং সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায় মজুরি বোর্ড গঠিত হলে শ্রমিক অসন্তোষ কমবে এবং দেশের প্রধান রপ্তানি খাত বৈদেশিক বাণিজ্যে তার গতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।