ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বাস টার্মিনালগুলো শহর থেকে দূরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে অপরিকল্পিত স্থান নির্বাচন ও সমন্বয়হীনতার কারণে এই পদক্ষেপে নগরবাসীকে একযাত্রায় দ্বিগুণ ভোগান্তি ও দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা পোহাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ফিডার সার্ভিস ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ছাড়া টার্মিনাল সরালে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত করতে বাস টার্মিনালগুলো সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী থেকে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত বহিঃশহরে স্থানান্তরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- টার্মিনাল স্থানান্তরের ফলে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও সংযোগকারী ফিডার বাসের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের মূল শহরে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
- পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, পর্যাপ্ত মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ নিশ্চিত না করে টার্মিনাল সরালে তা জনদুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে উল্টো দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকার যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালগুলো শহরের ভেতর থেকে বাইরে স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগ নতুন কোনো বিষয় না হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা কার্যকর ফিডার সার্ভিস চালু না করেই টার্মিনালগুলো স্থানান্তরের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসগুলোর নতুন টার্মিনাল শহর থেকে অতিরিক্ত দূরে হওয়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
অতীতেও শহরের ওপর চাপ কমাতে মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল স্থাপনের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরের ভেতরের যানজট নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্মিনালগুলো আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে যাত্রীদের সিটি বাস বা অন্যান্য মাধ্যমে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে মূল শহরে প্রবেশ করতে হয়। এর ফলে একযাত্রায় দুইবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মতো অর্থাৎ 'লং জার্নির' অভিজ্ঞতা পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের, যা তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টার্মিনাল স্থানান্তরের আগে প্রতিটি পয়েন্টে মেট্রো রেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এবং পর্যাপ্ত শাটল সার্ভিসের সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কিন্তু এই পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া অপরিকল্পিত স্থানান্তরের ফলে টার্মিনালগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে এবং যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাস মালিক ও শ্রমিকরাও মনে করেন, পর্যাপ্ত যাত্রী সুবিধা ও পার্কিং ইয়ার্ড না থাকায় নতুন স্থানগুলোতেও পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সার্বিকভাবে, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে টার্মিনাল স্থানান্তরের এই পরিকল্পনাকে আরও বেশি বিজ্ঞানসম্মত ও জনবান্ধব করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত মেট্রো ও গণপরিবহন ব্যবস্থার সাথে টার্মিনালগুলোর কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে না পারে, তবে এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া নগরবাসীর জন্য দূরহ হয়ে পড়বে এবং যাতায়াত সংকট আরও ঘনীভূত হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।