তেহরানে উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক শান্তি আলোচনার ঠিক পরেই সৌদি আরবের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এই হামলায় সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করলেও খণ্ডাংশের আঘাতে একজন নাগরিক আহত ও বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া শারি দাবি করেন, রাস তানুরা তেল শোধনাগার, আরামকোর আবকাইক স্থাপনা এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট ছয়টি স্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে।
- সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করলেও পতিতা খণ্ডাংশের আঘাতে এক সৌদি নাগরিক আহত হন।
- গত সোমবার তেহরানে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ির উদ্যোগে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধানের বৈঠকের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার পরই এই নতুন সংঘাতের সৃষ্টি হলো।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চারকারী তেহরান বৈঠকের কালি শুকাতে না শুকাতেই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া শারি দাবি করেছেন যে, তাদের বাহিনী সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান পর্যন্ত তীব্র হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাস তানুরা তেল শোধনাগার, আরামকোর আবকাইক স্থাপনা, কিং খালিদ ও কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগ তেল শোধনাগার এবং নাজরান অঞ্চলের একটি সৌদি সামরিক সদর দপ্তর।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে গত সোমবার তেহরানে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ির আয়োজনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। ওই কূটনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আঞ্চলিক শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সব পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছিল। কিন্তু সেই শান্তির প্রতিশ্রুতি ও কূটনৈতিক সংলাপের উদ্যোগের কালি শুকানোর আগেই সীমান্তে সামরিক সংঘাত ফের চরমে পৌঁছাল।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের এই হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, রিয়াদ অভিমুখে ছুটে আসা অন্তত দুটি প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে তাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ আবাসিক এলাকায় পড়ে যাওয়ার ফলে রিয়াদ সিটিতে একজন সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি বসতবাড়ি ও গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের সম্ভাব্য বড় ধরনের নাশকতা ও হামলা প্রতিহত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অবিলম্বে কঠোর ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের শান্তি আলোচনার ঠিক পরপরই এই ধরনের সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চলমান স্থায়ী শান্তি প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। এর ফলে তেল শোধনাগার ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।