৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"গত ১৫ অক্টোবর আমেরিকার টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের কেন্দ্রে ইলন মাস্কের টেসলা নতুন রোডস্টারের এক অভিনব প্রদর্শনীর আয়োজন করে। একটি বিশাল বাঁকানো র্যাম্পের উপর উল্টো হয়ে ছুটে এবং অল্প সময়ের জন্য শূন্যে ভেসে নিরাপদে অবতরণ করে গাড়িটি। স্পেসএক্সের কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কাণ্ড ঘটানো হয়, যা ভবিষ্যৎ পরিবহণ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ১৫ অক্টোবর আমেরিকার টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের কেন্দ্রে টেসলার নতুন রোডস্টারের এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
- নতুন এই রোডস্টারে স্পেসএক্স-উন্নত 'কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উচ্চচাপে গ্যাস বের করে বিপরীতমুখী ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করা হয়।
- ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এই রোডস্টার প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি এর চালকবিহীন ও উড়ন্ত সক্ষমতার ডেমো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাড়ি চলবে রাস্তায়, আর উড়বে আকাশে—সায়েন্স ফিকশন সিনেমার এই দৃশ্যকে বাস্তবের মঞ্চে রূপ দিয়ে চমক দেখাল ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলা। আমেরিকার টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে অবস্থিত স্পেসএক্সের একটি বিশেষ কেন্দ্রে আয়োজিত প্রদর্শনীতে টেসলার নতুন রোডস্টার গাড়িটি এক অসম্ভব কাণ্ড ঘটিয়ে দেখায়। বিশেষভাবে তৈরি একটি বিশাল বাঁকানো র্যাম্প বেয়ে উপরে ওঠার পর গাড়িটি উল্টো অবস্থায় ছুটে যায় এবং অল্প সময়ের জন্য শূন্যে ভেসে থেকে নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। এই চোখধাঁধানো ঘটনার ভিডিও ইলন মাস্ক নিজেই তাঁর এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডলে শেয়ার করার পর তা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই অভিনব প্রদর্শনীটির নেপথ্যে কাজ করেছে রকেট প্রযুক্তির সঙ্গে সাধারণ গাড়ির ইঞ্জিনের এক অভূতপূর্ব সমন্বয়। নতুন এই রোডস্টারে স্পেসএক্সের উন্নত 'কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার' প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মূল নীতি হলো—উচ্চচাপে থাকা গ্যাসকে নির্দিষ্ট একটি দিক দিয়ে দ্রুত বের করে দিয়ে বিপরীত দিকে শক্তিশালী ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করা, যা সাধারণত রকেটের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ইঞ্জিন কেবল চাকা ঘোরানোর কাজটি করলেও, থ্রাস্টার সংযুক্ত হওয়ার ফলে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
তবে এই প্রদর্শনীটি একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হয়েছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা। কোনও গাড়িকে সত্যিকারের উড়ন্ত যান হিসেবে সাধারণ রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে তুলতে হলে কেবল মাটি থেকে উপরে ওঠাই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখা, সুনির্দিষ্ট দিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত শক্তির জোগান এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা। পাশাপাশি, সাধারণ রাস্তায় এ ধরনের উড়ন্ত যানের চলাচলের জন্য সরকারি আইনগত অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্রের প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
২০১৭ সালের নভেম্বরে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এই রোডস্টার মডেলটি প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা বিলম্বের পর এর উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আজকের এই নিয়ন্ত্রিত ডেমো দেখে মনে হচ্ছে এটি নিছক সিনেমার কল্পনা হলেও, আগামী দিনে এর প্রযুক্তিগত কিছু অংশ হয়তো বাস্তব পরিবহণে জায়গা করে নেবে। তবে উড়ন্ত গাড়ির এই স্বপ্ন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের বাস্তবের মধ্যে এখনও যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে এবং তা বাস্তবে রূপ নিতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।