বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে জানা যায়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশে অমৃতসর থেকে ট্রেনে করে হ্যান্ডব্যাগে অস্ত্র এনে মুম্বাইয়ের দাদর স্টেশনে পাচার করা হয়েছিল। ধৃতদের ৩ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল হরিয়ানার সোনিপতের কুণাল ও সুমিত এবং উত্তরপ্রদেশের রাধা ও ববিতা নামের চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যাদের ৩ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বাই পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
- তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত দুটি পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড গুলি অমৃতসর থেকে ট্রেনে করে দুই নারীর ব্যাগে বহন করে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছিল।
- ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানরত লরেন্স গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিতের সরাসরি নির্দেশ এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে এই অস্ত্র পাচার ও হামলার পুরো পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তদন্তে প্রতিনিয়ত নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা কুণাল ও সুমিত এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাধা ও ববিতা রয়েছেন। দিল্লি পুলিশ চার অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে মুম্বাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এবং আদালত তাদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এর পাশাপাশি, রাজস্থানের কোটা থেকে মূল তিন শ্যুটারকেও মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টাইগার শ্রফের ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো সুদূর অমৃতসর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। চমকপ্রদ বিষয় হলো, পুরুষদের পরিবর্তে অস্ত্র পাচারের কাজে দুই মহিলাকে ব্যবহার করা হয়। হামলার দুই সপ্তাহ আগে সার্প শ্যুটাররা অমৃতসর থেকে দুটি পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করেন। অত্যন্ত সুকৌশলে 'ডেড লেটার বক্স' পদ্ধতি এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপের নির্দেশিকা অনুসরণ করে এই অস্ত্র মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হয়। রাধা ও ববিতা নিজেদের হ্যান্ডব্যাগে করে অস্ত্রগুলো ট্রেনে চড়ে দাদর স্টেশনে নিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে তা এক নাবালকের মাধ্যমে শ্যুটারদের হাতে পৌঁছায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় আত্মগোপনে থাকা কুখ্যাত লরেন্স গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে ধৃত কুণালের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। অনিলের নির্দেশেই অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা মুম্বাইয়ে শ্যুটারদের কাছে পাঠানোর এই নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। দাদর এলাকার একটি হোটেলে অস্ত্রগুলো প্রথমে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে এক কিশোর সেগুলো সংগ্রহ করে চূড়ান্ত হামলাকারীদের হাতে তুলে দেয়। শ্যুটাররাও জানতেন না ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে অস্ত্র এসে পৌঁছাচ্ছে, যা গ্যাংয়ের অত্যন্ত সুসংগঠিত অপরাধপ্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
এই চাঞ্চল্যকর অস্ত্র পাচার ও হামলার ঘটনা মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। টাইগার শ্রফের বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অন্যান্য টার্গেটদের নিয়েও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন এই চক্রের সাথে দেশজুড়ে আর কোন কোন আন্ডারওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক বা সেল সক্রিয় রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।