বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, হামলার আগে অন্ধেরির একটি হোটেলে অস্ত্র পরীক্ষার সময় মিসফায়ার হয়েছিল। প্রথমে সলমন খান ও রণবীর কাপুরের ওপর হামলার ছক কষা হলেও কড়া নিরাপত্তার কারণে লক্ষ্য বদল করে দুষ্কৃতীরা। অমৃতসর থেকে অস্ত্র এনে সুরাটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টাইগার শ্রফকে হামলার ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ৩ জন শ্যুটার ছাড়াও ৫ জন সহযোগী ও ২ জন নারী রয়েছেন।
- হামলার আগে মুম্বইয়ের অন্ধেরির একটি হোটেলে আগ্নেয়াস্ত্র পরীক্ষার সময় মিসফায়ার হয়ে বিছানায় গুলি লাগে, যা অস্ত্র পরীক্ষার মহড়ার অংশ ছিল।
- প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সলমন খান ও রণবীর কাপুরের ওপর হামলার ছক কষা হলেও কঠোর নিরাপত্তার কারণে পরে লক্ষ্য পরিবর্তন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে চাঞ্চল্যকর গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে আসছে। এই মামলায় দিল্লি ও মুম্বই পুলিশের যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোটা থেকে মুম্বইয়ে আনা হয়েছে সরাসরি জড়িত ৩ জন শ্যুটারকে। এছাড়া তাদের সহায়তাকারী আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে দু'জন নারীও রয়েছেন। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে এই হামলার নেপথ্যের এক ভয়ঙ্কর ও সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা।
তদন্তে জানা গেছে, টাইগার শ্রফের ওপর হামলা চালানোর মূল পরিকল্পনা ছিল অন্য তারকাদের ঘিরে। অভিযুক্তরা প্রথমে বলিউডের 'ভাইজান' সলমন খানকে হত্যার বা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি রণবীর কাপুরের বাসভবনের চারপাশেও তারা রেকি করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তারকাদের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বদল করে টাইগার শ্রফকে নিশানা করে দুষ্কৃতীরা। হামলার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি এসেছিল পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলার দিনগুলোতে অন্ধেরির একটি হোটেলে অস্ত্রগুলো নিয়ে মহড়া দিয়েছিল অভিযুক্তরা। সেখানে অস্ত্র ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করতে ১ জন দুই রাউন্ড এবং অন্যজন এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পরীক্ষা করে। ওই পরীক্ষার সময় একটি মিসফায়ার হয়ে হোটেলের বিছানায় গুলি লাগার ঘটনাও ঘটে। পরে হামলা সম্পন্ন করার পর ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো সুরাটের একটি গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় সেই সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্র ও মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
মামলার তদন্তের পরিধি বাড়াতে পঞ্জাব ও দিল্লি পুলিশের অপরাধী ডেটাবেসের সঙ্গে ধৃতদের ভয়েস স্যাম্পল বা কণ্ঠস্বরের নমুনা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধের পেছনে কোনো গ্যাং বা বৃহত্তর কোনো অপরাধ চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা এবং সেলিব্রিটি মহলে এ ধরনের সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক তৎপরতা পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।