জাতিসংঘের সিডিপির সুপারিশ অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সাল করা হয়েছে। করোনার অভিঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর ফলে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা ও আন্তর্জাতিক প্রণোদনা আরও তিন বছর বেশি ভোগ করার সুযোগ পাবে, যা দেশের রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা তিন বছর বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৯ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
- করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে এই অতিরিক্ত সময় চেয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
- এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) জিএসপি সুবিধাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে পারবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের নির্ধারিত প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের পরিবর্তে বাংলাদেশ এখন ২০২৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) পর্যালোচনার ভিত্তিতে এবং সরকারের বিশেষ অনুরোধে এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছিল এবং সাধারণত তিন বছরের প্রস্তুতিকাল শেষে ২০২৬ সালে উত্তরণ ঘটার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উচ্চ inflación ও সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটায় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদ ও নীতি নির্ধারকরা উত্তরণের সময় বাড়ানোর জোরালো তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।
অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় বর্ধিত হওয়ায় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব বা টিআরআইপিএস ছাড়, রপ্তানি প্রণোদনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার বা জিএসপি সুবিধা বহাল রাখতে পারবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৯ সালের পরেও ডব্লিউটিও নিয়ম অনুযায়ী আরও কিছুদিন পাওয়ার আলোচনা সহজ হবে।
এই তিন বছরের অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল দেশের তৈরি পোশাক খাত, চামড়া শিল্প এবং আইসিটি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সার্বিকভাবে, এই সময়সীমা দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে এবং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে সহায়ক হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।