চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ৪২.৩৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে বড় কোনো উন্নয়ন সহযোগী নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি, ব্যতিক্রম কেবল জাপান। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণের ছাড় কমেছে প্রায় অর্ধেক এবং সুদ-আসল পরিশোধের হার দ্বিগুণ হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এই ঋণ প্রবাহের নিম্নগতি অর্থনীতিতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মাত্র ৪৭ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২.৩৪ শতাংশ কম।
- জাপান ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আইএমএফ-এর মতো বড় দাতা সংস্থাগুলো এই তিন মাসে নতুন কোনো ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
- বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৮৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ও ছাড়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ৪৭ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২.৩৪ শতাংশ কম। বড় দাতা সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে কেবল জাপান সরকারই এই সময়ে নতুন ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিদেশি ঋণের এই নিম্নগতির পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধীরগতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। গত বছরের একই সময়ে ঋণের ছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২১০ কোটি ডলার, যা এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের হার গত বছরের ৪২ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৮৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইআরডির তথ্যমতে, বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ-এর মতো বড় দাতা সংস্থাগুলো থেকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি না আসায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা অর্জনে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঋণ প্রবাহের এই নেতিবাচক প্রবণতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন ঋণ না আসায় এবং পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে হিমশিম খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।