৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"তৃণমূলের সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনে বিজেপি-র টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। আগামী ১৬ অক্টোবর এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ৬ অক্টোবর মনোনয়ন জমার শেষ দিন। কোয়েলের এই দলবদল ও প্রার্থী হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদারতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশিষ্ট অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক তৃণমূলের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে এবার বিজেপি-র টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন এবং মনোনয়ন জমার আগে আনুষ্ঠানিকভারে পদ্মশিবিরে যোগ দিচ্ছেন।
- আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচন আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে।
- কোয়েলের দলবদল নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ তাঁকে কটাক্ষ করেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদার রাজনৈতিক সদিচ্ছার কঠোর সমালোচনা করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরণের পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এবার বিজেপি-র টিকিটে রাজ্যসভায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রবিবার প্রকাশিত বিজেপি-র রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থিতালিকায় তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর, অর্থাৎ দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং আগামী ৬ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ দিন। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী কোয়েলের উচ্চকক্ষে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে খুব শীঘ্রই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি-র পতাকা হাতে তুলে নেবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
এই রাজনৈতিক পালাবদল এবং কোয়েলের দলবদল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই ঘটনার সমালোচনা করা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই কোয়েল মল্লিককে আক্রমণ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি কোয়েলের এই পদক্ষেপকে এক ধরণের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দলত্যাগের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সুবিধাবাদী বলে মন্তব্য করেছেন। কুণাল ঘোষের মতে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদার মানসিকতা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট গুণীজনদের রাজনীতিতে যথাযথ সম্মান জানানোর সদিচ্ছার সুযোগ নিয়ে অনেকেই পরবর্তীতে ব্যক্তিগত স্বার্থে দলবদল করছেন।
কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠানোর বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, সমাজে বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যেমন অভিনেতা, গায়ক, খেলোয়াড় বা চিকিৎসকদের জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ করে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৃণমূল কংগ্রেস অতীতে তৈরি করেছিল, এই ধরনের দলত্যাগের ঘটনাগুলোর পর সেই সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেবদের মতো রাজনীতিকদের দলবদলের ইতিহাস থাকলেও, কোয়েলের এই হঠাৎ বিজেপি-র প্রার্থী হওয়া তৃণমূলের অন্দরে বড় ধরণের অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা শুধু শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক রাজ্য রাজনীতির সমীকরণের ক্ষেত্রেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজের বিশিষ্টজনদের রাজনীতিতে টেনে আনার যে দীর্ঘদিনের ধারা তৃণমূল বজায় রেখেছিল, কোয়েলের এই দলবদল ভবিষ্যতে সেই ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলের নীতিকে কঠোর করতে বাধ্য করবে। একইসঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই হাই-প্রোফাইল প্রার্থী বদল এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক তির্যক মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bengali.abplive.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।