লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

তোকেও তোর বাবার মতো অবস্থা করব—গাঁজার আসরে বেফাঁস মন্তব্যে ফাঁসলেন চাচা

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 07 নভেম্বর 2026, 05:14 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 42 বার পঠিত
তোকেও তোর বাবার মতো অবস্থা করব—গাঁজার আসরে বেফাঁস মন্তব্যে ফাঁসলেন চাচা
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

মাগুরার সুইপার কলোনিতে ২০২১ সালের জুনে মানিক লাল ডোম হত্যা রহস্য উন্মোচন করেছে সিআইডি। গাঁজার আসরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান আকাশের বেফাঁস হুমকির সূত্র ধরে এই ক্লুলেস মামলার জট খোলে। পারিবারিক বিরোধ ও পেনশনের টাকা আত্মসাতের জেরে নিহতের বড় ভাই হীরা লাল ডোম চার লাখ টাকায় চার ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ করেন। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে মাগুরার সুইপার কলোনিতে নিজ বাড়িতে খুন হন মর্গ সহকারী মানিক লাল ডোম (৩৫), যার তদন্ত প্রথমে পিবিআই করলেও আসামি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
  • নিহতের ছেলে আসন লালের সঙ্গে গাঁজা সেবনকালে মাছ বাজারের শ্রমিক মেহেদী হাসান আকাশ মেজাজ হারিয়ে বলেন, 'তোর বাবার যে অবস্থা করেছি, তোরও একই অবস্থা করব'—যা সিআইডির তদন্তে মূল সূত্র হিসেবে কাজ করে।
  • পারিবারিক জমি ও মা-বাবার পেনশনের টাকা আত্মসাতের বিরোধের জেরে নিহতের বড় ভাই হীরা লাল ডোম চারজন ভাড়াটে খুনিকে দিয়ে গলা কেটে মানিককে হত্যা করান, যাদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

মাগুরায় প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মানিক লাল ডোম হত্যা মামলার রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে মাগুরা পৌরসভার সুইপার কলোনিতে নিজ বাড়িতে খুন হন মানিক লাল ডোম। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী আশা রানি মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘ সময় এর কোনো কুলকিনারা হয়নি। মামলার তদন্ত প্রথমে স্থানীয় থানা পুলিশ এবং পরবর্তীতে পিবিআইয়ের হাতে গড়ায়। তবে পিবিআই কোনো আসামির সন্ধান না পেয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে সিআইডিকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সিআইডির মাগুরা ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন তদন্ত শুরু হলে নিহতের ছেলে আসন লালের একটি সূত্র মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তদন্তের একপর্যায়ে আসন জানান, স্থানীয় মাছ বাজারে কাজ করা মেহেদী হাসান আকাশ (৩০) একদিন গাঁজা সেবনের সময় তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, 'তোর বাবার যে অবস্থা করেছি, তোরও একই অবস্থা করব।' এই একটিমাত্র সূত্র ধরে গত ২৬ এপ্রিল আকাশকে আটক করে সিআইডি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার অন্যান্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন।

তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নিহত মানিক লাল ডোম ও তার বড় ভাই হীরা লাল ডোম উভয়ের মা-বাবা সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর হীরা লাল সম্পূর্ণ পেনশনের টাকা একাই আত্মসাৎ করেন এবং তাদের পৈত্রিক এক টুকরো জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। ছোট ভাই মানিক প্রায়ই বড় ভাই হীরাকে সবার সামনে অপমান করতেন। এই ক্ষোভের বশে হীরা লাল চারজন পেশাদার ও স্থানীয় অপরাধীকে ভাড়া করেন। ঘটনার দিন ভোরে অভিযুক্ত আকাশ, রুবেল, নিরঞ্জন ও লিয়াকত ঘরে ঢুকে মানিককে চেপে ধরে এবং লিয়াকত আলী ভারী দা দিয়ে তার গলা কেটে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটিয়ে পালিয়ে যান।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী হীরা লাল ডোমসহ মোট পাঁচ অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মেহেদী হাসান আকাশ ও রুবেল আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিআইডি এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সফলভাবে শেষ করেছে এবং আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিলের জন্য এর খসড়া সিআইডি সদরদপ্তরে পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার শঙ্কা কেটে গেছে এবং নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের আশা দেখছে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ