গাড়ি বা বাইকের স্পিডোমিটারে প্রকৃত টপ স্পিডের চেয়ে অনেক বেশি গতিবেগ লেখা থাকে। একই যন্ত্রাংশ বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে ব্যবহার, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'টুয়েলভ ও ক্লক রিডেবিলিটি', ড্যাশবোর্ডের নান্দনিক ডিজাইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন গতির সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই কৌশলগত নকশা করা হয়। এর মাধ্যমে চালকের অতিরিক্ত চাপের মানসিক শঙ্কাও দূর হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতির গাড়ির স্পিডোমিটারে প্রায়শই ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি লেখা থাকে যাতে একই যন্ত্রাংশ বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে ব্যবহার করা যায়।
- নিরাপত্তা ও 'টুয়েলভ ও ক্লক রিডেবিলিটি' নীতির কারণে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ গতিবেগগুলো স্পিডোমিটারের একেবারে সামনে বা দৃশ্যমান স্থানে রাখা হয়।
- ভারত ও জার্মানির মতো বিভিন্ন দেশের ভিন্ন হাইওয়ে স্পিড লিমিট এবং রপ্তানির বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো মিটার ডিজাইন করে থাকে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যানবাহন চালনার ক্ষেত্রে স্পিডোমিটার একটি অপরিহার্য উপাদান হলেও এর নকশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা কৌতূহল কাজ করে। খেয়াল করলে দেখা যায়, গাড়ি বা বাইকের অ্যানালগ স্পিডোমিটারে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করা টপ স্পিডের তুলনায় অনেকটাই বেশি গতিবেগ খোদাই করা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যে গাড়ির প্রকৃত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার, তার স্পিডোমিটারে অনেক সময়ই ২০০ বা তার বেশি গতিবেগ লেখা থাকে। বাইকের ক্ষেত্রেও ১০০ কিলোমিটার গতির বাহনে ১৫০ বা ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিসীমা অঙ্কিত থাকে।
এই ব্যবধানের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক কারণ রয়েছে। সাধারণত গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো একই মডেলের একাধিক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করে থাকে। প্রতিটির ইঞ্জিন ক্ষমতা ও টপ স্পিড ভিন্ন হলেও সব ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদা আলাদা স্পিডোমিটার তৈরি করা আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। ফলে সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়ে একই স্পিডোমিটার বিভিন্ন মডেলে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, ৮০ বা ১০০ কিলোমিটারের মতো মাঝারি ও ঝুঁকিপূর্ণ গতিগুলো যাতে চালকের চোখের সামনে স্পিডোমিটারের একদম সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে, সেজন্যই এই নকশা করা হয়। শিল্পে এটিকে 'টুয়েলভ ও ক্লক রিডেবিলিটি' বলা হয়ে থাকে।
এছাড়া মনস্তাত্ত্বিক কারণ ও সুরক্ষাও এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় চালক যদি দেখেন যে কাঁটাটি একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে, তবে অবচেতনভাবেই ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার মানসিক শঙ্কা তৈরি হয়। স্পিডোমিটারের স্কেল বড় থাকলে চালক তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকেন। পাশাপাশি ড্যাশবোর্ডের ডিজাইনে ভারসাম্য বজায় রাখতেও এটি সাহায্য করে। যদি মিটারটি হুট করে ১০০ বা ১৪০ কিলোমিটারে শেষ হয়ে যায়, তবে ড্যাশবোর্ডের বাকি অংশ ফাঁকা ও দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে।
বিশ্ববাজারের চাহিদাও এই নকশার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাইওয়েতে গাড়ির গতির আইনি সীমা ভিন্ন। ভারতের হাইওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হলেও জার্মানির মতো দেশে তা অনেক বেশি। সব দেশের বাজারের জন্য আলাদা আলাদা স্পিডোমিটার প্রস্তুত করা ব্যয়বহুল হওয়ায় সংস্থাগুলো একটি সর্বজনীন স্কেল ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।