অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে ল্যান্ডফলের আশঙ্কায় একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করেছে ভারতীয় রেল। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাওড়া-জগদলপুর, সেকেন্দ্রাবাদ-হাওড়াসহ বেশ কিছু রুটের ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' আগামী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি ল্যান্ডফল করতে পারে, যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে।
- রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস (১৮০০৫), সেকেন্দ্রাবাদ-হাওড়া এক্সপ্রেস এবং বিশাখাপত্তনম-কিরান্দুল এক্সপ্রেসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
- ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এবং পশ্চিমের জেলাগুলোতেও বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি ও ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা উপকূল এবং বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি এই ঝড়ের ল্যান্ডফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করার জরুরি ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় রেল।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত এবং প্রবল দূর্যোগের কথা মাথায় রেখে ২৭ অক্টোবর থেকে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। বাতিল হওয়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রৌরকেল্লা-যোধপুর এক্সপ্রেস, ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জগদলপুর-রৌরকেল্লা এক্সপ্রেস (১৮১০৮), এবং ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস (১৮০০৫)। এছাড়া বিশাখাপত্তনম ও কিরান্দুল রুটের একাধিক প্যাসেঞ্জার ও এক্সপ্রেস ট্রেনও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রধান প্রভাব অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল ও দক্ষিণ ওড়িশায় পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গেও। বুধবার থেকেই উপকূলবর্তী ও পশ্চিমের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সার্বিক নজরদারি বজায় রেখেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।