মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম ও পেন্টাগন পারমাণবিক কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে তালিকা তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই নির্দেশ আসতে পারে। এর জবাবে তেহরান ও হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনায় পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে।
- মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের ২৩ অক্টোবর দেওয়া স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে যৌথ হামলার চেষ্টা করলেও ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ণ প্রস্তুতি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে, তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত নির্দেশ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই ইরানে ইতিহাসের অন্যতম বড় সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা, পারমাণবিক কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি করেছেন। এ বছরের শুরুর দিকে সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও এবারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ হবে অনেক বেশি বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ আসতে পারে।
সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপের পেছনে কাজ করছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের গত ২৩ অক্টোবরের এক স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও হুতি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন বা ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা চালালে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সেনা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও সামরিক সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় এবং চূড়ান্ত কৌশলগত হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ওঠার স্বার্থে ইসরায়েলকে অপেক্ষা করতে বলেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত রবিবার সরেজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। ওই অঞ্চলে ইরানের পুঁতে রাখা মাইন অপসারণ ও নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনী কড়া নজরদারি বজায় রাখলেও, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া রয়েছে।
কূটনৈতিক কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না আসলে এই সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক মারাত্মক আঞ্চলিক সংঘাতে ফেলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা না হলেও, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য তাদের সামরিক প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।