৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থের অজুহাত দেখিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি তেল ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট মওকুফ করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। কংগ্রেসে পাস হওয়া এই আইনে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্কের বিধান ছিল। ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাশিয়া সন্তোষ প্রকাশ করলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জাতীয় স্বার্থের কথা বলে লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্টের আওতায় রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মওকুফ করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
- মার্কিন কংগ্রেসে সদ্য অনুমোদিত লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্টে রুশ জ্বালানি তেলের আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের কঠোর বিধান রাখা হয়েছিল।
- ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে স্বাগত জানালেও, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জ্বালানি তেল ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মওকুফ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত আদেশে জানানো হয়, গ্রাহাম অ্যাক্টের আওতাধীন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থনে লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট অনুমোদিত হয়েছিল। প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণকৃত এই আইনে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে রুশ জ্বালানি তেলের প্রধান আমদানিকারক দেশ—চীন, ভারত ও তুরস্কের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান ছিল। এছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের শ্যাডো ফ্লিট, ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমা শেষের আগেই ট্রাম্প তা স্থগিত করলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তিনি একে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ ও সংলাপের পথ সুগমকারী বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ নষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বাজারে তেল ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ট্রাম্প এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের অবস্থান দুর্বল হবে এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার DW.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।