তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সুস্থ জাতি গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৫৭টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস মশাল প্রজ্বলন করেন এবং রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট বিজয়ীদের মেডেল প্রদান করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ জাতি গঠনে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স ও প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন।
- রাষ্ট্রপতি মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অ্যাথলেটিকস হলো ক্রীড়ার জননী, যেখানে একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর ভিত্তি মজবুত হলে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সুস্থ জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ দখলমুক্ত করে তা সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫৭টি দলের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য মার্চ পাস্ট ও থিম সং পরিবেশিত হয়। বিশিষ্ট সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সুমিতা রানী দাস যৌথভাবে গেমসের মশাল প্রজ্বলন করেন। উদ্বোধন পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি পুরুষ ও নারী বিভাগের ১০০ মিটারের স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী অ্যাথলেটদের গলায় পদক পরিয়ে দেন। এ সময় নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সংকটের কারণে কোনো প্রতিভা যেন ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়।
মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে শুধুমাত্র সরকারের ওপর নির্ভর না করে দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বীমা কোম্পানিসহ ব্যবসায়ী সমাজকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বহুমুখী উদ্যোগ এবং নিয়মিত আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশসেরা প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা উঠে আসবে, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।