নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী ও কুবি শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে ভুইঘর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিহত ফারজানা ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে।
- ঘটনার পর ফতুল্লা থানা পুলিশ নিহতের স্বামী ও কুবির ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে আটক করেছে।
- পরিবারের দাবি, এর আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারজানা চার মাস বাবার বাড়িতে ছিলেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন যা পরে সমঝোতায় প্রত্যাহার করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড সংলগ্ন ভুইঘর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার ভুইঘর এলাকার ওই বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নিহত ফারজানা ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে হয়। চাকরির সুবাদে গত আড়াই মাস ধরে তারা ফতুল্লার ভুইঘর এলাকার ওই বাসাটিতে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ফারজানার কলহ চলে আসছিল। ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাজমুল প্রায়ই তার বোনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে ফারজানা এর আগে একবার বাবার বাড়িতে গিয়ে টানা চার মাস অবস্থান করেছিলেন। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই ফারজানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী নাজমুল ইসলাম নিজে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর সংবাদ জানান। পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আটক নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।