৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ভারতে ইন্টারনেট ও ডেটার ব্যয় নিয়ে ইলন মাস্কের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন জোহো কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে ডেটার মূল্য অবিশ্বাস্য রকমের সস্তা। তীব্র টেলিকম প্রতিযোগিতা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর কল্যাণে ভারতীয় গ্রাহকরা প্রতি জিবি ডেটা নামমাত্র মূল্যে ব্যবহার করতে পারছেন, যা পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জোহো প্রধান শ্রীধর ভেম্বু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য তুলে ধরে জানান, ভারতে প্রতি জিবি মোবাইল ডেটার গড় খরচ মাত্র ১০ থেকে ১৩ রুপি (প্রায় ০.১২ থেকে ০.১৬ ডলার), যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন।
- স্টারলিংক ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের উচ্চ ব্যয়ের তুলনায় ভারতের রিলায়েন্স জিও এবং এয়ারটেলের মতো টেলিকম সংস্থাগুলোর দেওয়া ৪জি ও ৫জি ডেটা সেবা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি সহজলভ্য বলে দাবি করেন তিনি।
- ইলন মাস্কের ভারতে ইন্টারনেট ও পরিষেবা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শ্রীধর ভেম্বু স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় ডেটা অবকাঠামো ও ক্রয়ক্ষমতার বাস্তবতায় বৈশ্বিক সংস্থাগুলোকে নিজস্ব কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতে ইন্টারনেটের খরচ ও বৈশ্বিক সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের পরোক্ষ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা জোহো কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী শ্রীধর ভেম্বু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারতে ডেটা পরিষেবা অবিশ্বাস্য রকমের সস্তা এবং কার্যকর। বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ভারতীয় বাজারের স্থানীয় বাস্তবতা এবং তীব্র টেলিকম প্রতিযোগিতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের উচ্চ ব্যয়ের উদাহরণ টেনে শ্রীধর ভেম্বু উল্লেখ করেন, ভারতে টেলিকম বিপ্লবের ফলে গত কয়েক বছরে ইন্টারনেটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। আন্তর্জাতিক টেলিকম বিশ্লেষক সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি জিবি ডেটার গড় খরচ যেখানে কয়েক ডলার, সেখানে ভারতে তা পাওয়া যায় গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১৩ রুপিতে (প্রায় ০.১২ থেকে ০.১৬ ডলার)। এই চরম সাশ্রয়ী ডেটা অবকাঠামো কোটি কোটি ভারতীয়কে ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বিশেষ করে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা 'স্টারলিংক' ভারতে প্রবেশ করতে চাইলে স্থানীয় খরচের ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। শ্রীধর ভেম্বু সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা মডেল সরাসরি ভারতীয় ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ভারতে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো টেলিকম জায়ান্টরা দেশজুড়ে দ্রুতগতির ফাইবার ও ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে যে সাশ্রয়ী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে, সেখানে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ডের মতো ব্যয়বহুল প্রযুক্তি কতটা প্রতিযোগিতায় টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
প্রযুক্তি মহলে এই বিতর্ক ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় উদ্ভাবনের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। ভেম্বুর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় প্রকৌশল দক্ষতা এবং ভোক্তাবান্ধব মূল্য কাঠামোর মাধ্যমেই ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ভোক্তাবাজারে পরিণত হয়েছে। ফলে কোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ভারতে সফল হতে চাইলে তাদের কেবল উন্নত প্রযুক্তি আনলেই চলবে না, বরং ভারতীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Ei Samay-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।