লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ভিডিও কলে, এফিডেভিট করে শুধু কবুল পড়ে বিয়ে করলে আইনের চোখে বৈধ হয়?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 03 নভেম্বর 2026, 02:14 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 81 বার পঠিত
ভিডিও কলে, এফিডেভিট করে শুধু কবুল পড়ে বিয়ে করলে আইনের চোখে বৈধ হয়?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশে শরীয়তসম্মতভাবে মসজিদে কবুল বলে বা নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে হলেও রাষ্ট্রীয় আইনে তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। আইন অনুযায়ী বিয়ে বৈধ করতে হলে অবশ্যই সরকারনিযুক্ত কাজীর মাধ্যমে তা রেজিস্ট্রি করতে হবে। ২০১৯ সালে আইন মন্ত্রণালয় নোটারি এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন নিষিদ্ধ করেছে। নিবন্ধন না থাকায় নারীরা দেনমোহর ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • আইনজীবী মো. শামসুদ্দোহা সুমনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইনানুযায়ী যেকোনো বিয়ে এবং তালাক বৈধ হতে হলে একমাত্র কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক এবং নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
  • আইন মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালে বাল্যবিবাহ ও অবৈধ বিবাহ প্রতিরোধে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছিল।
  • বাংলাদেশে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর নির্ধারিত রয়েছে। বয়স লুকানোর উদ্দেশ্যে এফিডেভিট ব্যবহার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা না থাকায় নারীরা দেনমোহর বা সম্পত্তির আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক দম্পতি শরীয়তসম্মতভাবে মসজিদে গিয়ে কলেমা পড়ে বা দুই জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে 'কবুল' বলে বিয়ে সম্পন্ন করেন। এছাড়া নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ের প্রচলিত ধারাও রয়েছে। কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ে সম্পূর্ণ হলেও রাষ্ট্রীয় আইনের দৃষ্টিতে তা বৈধ নয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী, বৈধ স্বামী-স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে বিয়ে অবশ্যই রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে, যা কেবল সরকারনিযুক্ত নিবন্ধিত কাজীর মাধ্যমেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

আইনি বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিয়ের জন্য মেয়েদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স ২১ বছর হতে হবে। অনেক সময় প্রকৃত বয়স লুকিয়ে বা কম বয়সে গোপনে বিয়ে করার জন্য নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিটের আশ্রয় নেওয়া হয়। তবে ২০১৯ সালে আইন মন্ত্রণালয় নোটারি এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে কঠোর নির্দেশনা জারি করে। ফলে এফিডেভিট করা এসব বিয়ের রাষ্ট্রীয় কোনো ভিত্তি বা আইনি স্বীকৃতি নেই।

ঢাকা উত্তরার কাজী অফিসের কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মাসুক জানান, বিয়ের পর এক মাসের মধ্যে তা রেজিস্ট্রি করার আইনি দায়িত্ব স্বামীর। ইসলামের দৃষ্টিতে দুই সাক্ষী ও দেনমোহর নির্ধারণ সাপেক্ষে বিয়ে জায়েজ হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কাবিননামা বা নিবন্ধন না থাকলে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায় না। এ ধরনের অনিবন্ধিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার বা স্বামীর মৃতদেহ দাবি করতে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন। এমনকি অনেক সময় নারী নির্যাতন বা যৌতুক মামলায় আইনি প্রতিকার পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়ই এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপে জড়িয়ে পড়েন। তাই বাল্যবিবাহ রোধ, নারী ও শিশুদের আইনি অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি নিয়মে কাজী অফিসে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক সময়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি না করার ফলে পরবর্তীতে দম্পতিদের নানা ধরনের আইনি ও সামাজিক ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ