৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ভরা মৌসুমে তীব্র সরবরাহ সংকটে বরিশালের পোর্ট রোড পাইকারি মোকামে ইলিশের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মোকামে স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক ১,৫০০ মণের বিপরীতে সরবরাহ নেমেছে ১০০-১৫০ মণে। ফলে ১ কেজি আকারের ইলিশের মণ ১ লাখ এবং দেড় কেজির মণ দেড় লাখ টাকা স্পর্শ করেছে, যা খুচরায় প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বরিশাল পোর্ট রোড মোকামে ভরা মৌসুমে দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মণ ইলিশের সরবরাহ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মণে।
- পাইকারিতে ১ কেজি ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ১ লাখ টাকা, ১.২ কেজি ওজনের সোয়া লাখ এবং দেড় কেজি ওজনের মণ দেড় লাখ টাকায় উঠেছে; খুচরায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ থেকে ৩,০০০ টাকায়।
- বরিশালের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি, নাব্যতাসংকট এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট ও বেহেন্দি জালের ব্যবহারের ফলে গত চার বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন ক্রমাগত কমছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভরা মৌসুমেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ইলিশ মোকাম বরিশালের পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে তীব্র ইলিশ সংকট। নদী ও সাগরে কাঙ্ক্ষিত রূপালী ইলিশ না মেলায় মোকামে দৈনিক স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় মাত্র দশ শতাংশ মাছ আসছে। সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম মণপ্রতি এক লাখ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশের মণ দেড় লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাবে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে জাতীয় এই মাছ।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মণ ইলিশ কেনাবেচা হতো। তবে বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ মণে এসে ঠেকেছে। সরবরাহ তলানিতে নামায় মোকামে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এখন নেমে এসেছে কয়েক লাখ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও আগুন লেগেছে; মাঝারি থেকে বড় আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি অতীতে ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকাও এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকায়।
মৎস্য অধিদপ্তরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিগত চার বছর ধরে নদ-নদীতে ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। ইলিশের গতিপথ ব্যাহত হওয়ার পেছনে নদীতে পানির প্রবাহ ও তীব্র স্রোতের অভাব, বিভিন্ন মোহনায় ডুবোচর সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং নিষিদ্ধ ক্ষুদ্র ফাঁসের কারেন্ট ও বেহেন্দি জালের ব্যবহারকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরিশালের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, অবৈধ কারেন্ট ও বেহেন্দি জাল ইলিশের পোনা নিধনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত করছে। পাশাপাশি নদীর ডুবোচরগুলো ড্রেজিং ও খনন করে চলাচলের স্বাভাবিক পথ সুগম না করা পর্যন্ত নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়ানো কঠিন হবে।
ভরা মৌসুমেও ইলিশের এই চড়া মূল্যের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারা। একদিকে সরবরাহ সংকটে মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ব্যবসায়িক লোকসান বাড়ছে, অন্যদিকে মাছের দেখা না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন জেলেরা। সংকট উত্তরণে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা, ডুবোচর খনন এবং প্রজনন সুরক্ষায় কঠোর তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার এখন টিভি-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।