ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। চট্টগ্রাম দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া চেক ইস্যু করা হয় এবং পরদিন তা সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামক হিসাবে জমা দিয়ে তোলা হয়।
- দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও প্রকৃত কোহিনুর আক্তার এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভুয়া বিল ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। অভিযুক্তদের তালিকায় রেলওয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সীমান্ত ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি নিয়মিত বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি সম্পূর্ণ ভুয়া বিল প্রস্তুত করা হয়। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ওই চেকটি পরের দিন সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় জমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে পুরো অর্থই উত্তোলন করা হয়। রেলওয়ের অফিসিয়াল বিল রেজিস্টারে এই ভুয়া বিলের কোনো বৈধ এন্ট্রি বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই পুরো জালিয়াতি চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে চেক ইস্যু ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সীমান্ত ব্যাংকে ভুয়া হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৃত কোহিনুর আক্তার একজন সাধারণ শ্রমিক এবং এই ব্যাংক হিসাব কিংবা ব্যবসার সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আর্থিক জালিয়াতি রোধে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে এই মামলার রায়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং কথিত কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীসহ নেপথ্যে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের প্রকৃত পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা উদঘাটন করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনা ব্যাংক খাতের নজরদারি এবং সরকারি দপ্তরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।