৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে সরকারের ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. শফিউল আলমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের বিভাগীয় তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এই শাস্তিমূলক আদেশ জারি করেছে এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. শফিউল আলমের বিরুদ্ধে বন্দিদের খাদ্য, মালামাল সরবরাহ ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
- সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী সুরক্ষা সেবা বিভাগ তাঁকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
- আত্মসাৎকৃত ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা শফিউল আলমের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে চিহ্নিত করে তা সরকারি কোষাগারে আদায়ের লক্ষ্যে আইনগত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. শফিউল আলমকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ অডিট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত শাস্তিমূলক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলা কারাগারে দায়িত্ব পালনকালে শফিউল আলম বন্দিদের প্রাত্যহিক খাদ্য সরবরাহ, চিকিৎসা ব্যয়, কারাসামগ্রী ক্রয় ও দাপ্তরিক অন্যান্য সেবার নামে অস্তিত্বহীন ভাউচার দাখিল করেন। কোনো প্রকার পণ্য বা সেবা গ্রহণ না করেই সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকারও বেশি অর্থ কৌশলে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তীতে নিয়মিত অডিট নিরীক্ষায় ভাউচারের সঙ্গে নথিপত্র ও কার্যতালিকার ব্যাপক অমিল ধরা পড়ে।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিলেও তিনি সন্তোষজনক প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) মতামত নিয়ে তাঁকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরিচ্যুত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আত্মসাৎকৃত ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা শফিউল আলমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কিংবা বকেয়া সুযোগ-সুবিধা থেকে সরকারি পাওনা হিসেবে আদায় করা হবে। এছাড়া আর্থিক অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Dhakatimes24-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।