সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা ও সুস্পষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও বীরভূমসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে বাতাস ও ৭-১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থানরত সুস্পষ্ট নিম্নচাপ ও মৌসুমি অক্ষরেখার কারণে কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে; কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে জল জমার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সুস্পষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার দ্বৈত প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবারও ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের দিকে যাচ্ছে। এর প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দফায় দফায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া ও তীব্র বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতায় আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি অবস্থান করবে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি রাস্তায় ভূমিধসের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি সমতল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সাময়িক জলজট তৈরি হতে পারে, যা স্থানীয় যোগাযোগ ও জনজীবনে প্রভাব ফেলবে।
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে এই দফায় বর্ষণ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু এখনই বিদায় নিচ্ছে না এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের প্রাচুর্য থাকায় আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার এমন অস্থির পরিস্থিতি বজায় থাকবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার এবং নিরাপদে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।