৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আসন্ন মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমনে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শত কোটি টন ডিজেল আমদানির চুক্তি ও জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞার মুখে এই উদ্যোগ চরম রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এতে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের ওপরেই রয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কংগ্রেস নির্বাচনের পূর্বে মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলোর ভোটারদের অসন্তোষ দূর করতে রাশিয়া থেকে শত কোটি টন ডিজেল আমদানির নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- চুক্তির পরপরই ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে রুশ হামলা শুরু হয় এবং খোদ চারজন রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে ট্রাম্পকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়ে যৌথ চিঠি পাঠান।
- সব কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতা থেকে সামান্য কমলেও এখনো প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হতে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকাকালীন নিজ দেশের ভোটারদের হতাশা কাটাতে বিদেশমুখী হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলোতে কৃষিযন্ত্র চালানো এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ডিজেল অপরিহার্য হওয়ায় উচ্চ জ্বালানি মূল্যের জেরে মার্কিন ভোটারদের সমর্থন দ্রুত কমছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন, যার আওতায় আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে শত কোটি টন ডিজেল পাবে এবং এজন্য রুশ ডিজেলের ওপর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়।
তবে এই আকস্মিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং খোদ নিজ দলেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে তাকে এই চুক্তির বিষয়ে আগে থেকেই জানানো হয়নি এবং চুক্তির ঘোষণার পরদিনই রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালায়। এদিকে ২০২২ সালে কংগ্রেসের পাস করা রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আইন সরাসরি লঙ্ঘন করায় চারজন রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এক জোটে স্বাক্ষর করে ট্রাম্পকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন রুশ শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধে ট্রাম্প জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং রুশ তেল অবকাঠামোর হামলা অব্যাহত থাকলে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধের হুমকি দেন। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইউক্রেনের একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে এবং জেলেনস্কিকে এই হামলা 'অবশ্যই বন্ধ করতে হবে'। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ডিজেল চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে এটি ইউরোপের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করছে।
যুদ্ধের এই নাটকীয় মোড় এবং যুদ্ধবিরতির নানা প্রতিশ্রুতির পরও মার্কিন বাজারে ডিজেলের দামে তার কাঙ্ক্ষিত কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। ডিজেলের দাম এখনো প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের বেশ ওপরেই অবস্থান করছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্প ও তার দলের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হামলা এই জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।