গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেগা প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজেট সহায়তার কারণে দেশের বৈদেশিক ঋণের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় অর্থনীতিতে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া পরিমাণ তিন গুণ বেড়ে প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
- অতিরিক্ত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় বাজেট সহায়তা নেওয়ার কারণে বিদেশি ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিদেশি ঋণের এই বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর ঋণ ও সুদ পরিশোধের বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিদেশি ঋণের বকেয়া প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশের মোট বিদেশি ঋণের বকেয়ার পরিমাণ ১৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিগত ১০ বছরের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন দর্শনের কারণে এই বিশাল অংকের ঋণ জমা হয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ১০ বছরে দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ মূলত বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, মেট্রোরেল এবং কর্ণফুলী টানেলের মতো উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে চড়া সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ নেওয়া হয়। এছাড়া কর রাজস্ব আদায়ে শ্লথগতি এবং রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ধীরগতির কারণে বাজেট ঘাটতি মেটাতেও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতে, এই দ্রুত বর্ধমান ঋণ পরিশোধের সময় বা গ্রেস पीरियड শেষ হয়ে আসায় এখন আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর এই ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে ডলার সংকটের এই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে ঋণ ও সুদ পরিশোধের পেছনে।
দীর্ঘমেয়াদে এই ঋণের বোঝা সামাল দিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে জোরালো সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় ক্রমবর্ধমান ঋণ পরিশোধের চাপ দেশের উন্নয়ন বাজেট এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ সংকুচিত করে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।