এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০০ টাকায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে। বর্ধিত মূল্যের কারণে অনেক পরিবার রান্নার কাজে গ্যাসের পরিবর্তে লাকড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা জ্বালানির এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বার্থবিরোধী বলে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে দাম কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাজারে বর্তমানে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২৫০০ টাকায় ঠেকেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
- অতিরিক্ত দামের কারণে তামান্নার মতো অনেক গৃহিণী বাধ্য হয়ে গ্যাসের চুলা বাদ দিয়ে লাকড়ি ব্যবহার করে রান্না করছেন।
- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত এই মূল্য প্রতিবেশী দেশের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রান্নাঘরে নেমে এসেছে স্থবিরতা। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ এই বর্ধিত ব্যয় বহন করতে না পেরে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে লাকড়ির দিকে ঝুঁকছেন, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বাজারে এলপিজির সরকারি ও বেসরকারি মূল্য প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সামগ্রিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অথচ সাধারণ ভোক্তাদের আয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি না পাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে।
এই জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন এই বর্ধিত মূল্যকে পুরোপুরি জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকেও এলপিজির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ভর্তুকি প্রদান বা বাজার তদারকি জোরদার না করলে নিম্নবিত্ত মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।