চরম ক্রেতা সংকট ও অতিমূল্যের কারণে গত এক বছরে দেশের আবাসন খাতে ফ্ল্যাটের বেচাকেনা প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির দামের সামঞ্জস্য না থাকায় রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে নিজেদের আবাসনের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে। ফলে স্থবিরতা নেমে এসেছে আবাসন ব্যবসায়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত এক বছরে দেশের আবাসন বাজারে ফ্ল্যাট ও প্লটের বেচাকেনা আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।
- সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় বাড়ি ও ফ্ল্যাটের দাম বহুগুণ বেশি থাকায় অধিকাংশ মধ্যবিত্তের আবাসন কেনার সক্ষমতা হারিয়ে গেছে।
- ক্রেতা সংকটের কারণে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট শিল্প ও কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা চড়া দামের প্রভাবে গত এক বছরে ফ্ল্যাটের বেচাকেনা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট ও প্লট বিক্রির হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় চরম ক্রেতা সংকটে পড়েছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্য এবং ব্যাংক ঋণের চড়া সুদের কারণে ডেভেলপার কোম্পানিগুলোও নতুন প্রকল্প হাতে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
মূলত সাধারণ মানুষের গড় আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর পর সঞ্চয়ের অভাবে নতুন ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার সামর্থ্য হারাচ্ছেন। এছাড়া গৃহঋণের সহজলভ্যতা না থাকা এবং ব্যাংকিং খাতে কড়াকড়ির ফলে ক্রেতারা বিনিয়োগ বা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, নির্মাণ উপকরণের লাগামহীন দামের কারণে চাইলেও ফ্ল্যাটের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, ক্রেতাদের হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা দীর্ঘমেয়াদি সহজ কিস্তির সুযোগ না থাকায় চাহিদা দিন দিন কমছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ছোট ও মাঝারি আবাসন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
আবাসন খাতের এই মন্দা কেবল ডেভেলপারদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং এর সঙ্গে জড়িত সিমেন্ট, রড, ইট ও রঙের মতো দুই শতাধিক উপখাতকেও সংকটে ফেলছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে আবাসন নিয়ে আসতে সরকারি প্রণোদনা, গৃহঋণের সুদহার কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পলিসি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।