প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অবৈধ অভিবাসন রোধে ১২টি দেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব দেশের জন্য বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদান থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট ১২টি দেশে কর্মী পাঠাতে এখন থেকে সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) পরবর্তী সরকারি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ১২টি দেশের অনুকূলে সব ধরনের বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদান স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
- অভিবাসন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ মানব পাচার রোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অভিবাসন খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে নির্দিষ্ট ১২টি দেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ছাড়পত্র বা সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো এজেন্সির পক্ষে আর কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে না।
এরই ধারাবাহিকতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ১২টি দেশের জন্য সব ধরনের বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মূলত যেসব দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কিংবা কর্মীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি রয়েছে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই এ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়মের ফলে বিদেশে গিয়ে কর্মীদের বিপাকে পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে যেসব দেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে বা ভুয়া চুক্তিতে কর্মী পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দায়বদ্ধতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত দেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং বৈধ উপায়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির অনুমোদন প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘসূত্রিতায় না পড়ে, সেদিকেও নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, যেন বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশগামীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।