এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ তিন দফা দাবি আদায়ের জন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বরের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে দেশব্যাপী কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত দিনে পে-স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বৈষম্য দূরীকরণে মন্ত্রণালয়ে স্মারক লিপিও দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ মোট ৩টি প্রধান দাবি বাস্তবায়নের জন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রাজপথে কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- এর আগে শিক্ষকদের পে-স্কেলের চিঠির স্মারকে ভুলত্রুটি সংশোধন এবং দ্রুত সরকারি বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা এবং বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বা আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে না নেওয়া হলে শিক্ষকরা কঠোর ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র বেতনে চাকরি করায় মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি শিক্ষকদের পে-স্কেল সংক্রান্ত একটি চিঠির স্মারকে ভুলত্রুটি ধরা পড়লে তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক পর্যালোচনার কথা বললেও সুনির্দিষ্ট কোনো গেজেট বা প্রজ্ঞাপন এখনও জারি করা হয়নি। শিক্ষক নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি সরকারের উচ্চপর্যা থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসে, তবে তারা পাঠদান বর্জনসহ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনে বাধ্য হবেন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করায় শিক্ষকদের মানসম্মত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই সংকটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রমে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।