ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং আশেপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। চলমান এই শ্রমিক অসন্তোষের জেরে সাভারের আশুলিয়ায় বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাকশ্রমিকেরা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতন নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করেছেন।
- আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা অবরোধ করায় ওই অঞ্চলের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
- মিরপুরের পাশাপাশি সাভারের আশুলিয়া অঞ্চলেও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অন্তত ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। হঠাৎ এই সড়ক অবরোধের ফলে মিরপুর ও এর আশেপাশের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবস্থানে ওই এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং যান চলাচল স্থবির হয়ে যায়।
গত কয়েক মাস ধরেই দেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাতে শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে নানা অসন্তোষ চলে আসছে। বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকেরা তাদের বিদ্যমান মজুরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারে এই বেতনে জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যে কারণে তারা ৩০ হাজার টাকা প্রারম্ভিক বেতনের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এর আগে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিক বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে কর্তৃপক্ষ ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
পোশাকশিল্পের মতো দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের এই ধারাবাহিক অসন্তোষ সামগ্রিক অর্থনীতি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারখানা মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে এই অস্থিরতা পুরো রপ্তানি বাণিজ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।