৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বক্সীগঞ্জ গ্রামে সম্পত্তির বিরোধের জেরে মৃত বাবা নাজির উদ্দিন ব্যাপারীর (৭৫) মরদেহ প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে বাড়ির উঠানে খাটিয়ায় পড়ে থাকে। সোমবার দিবাগত রাতে মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ না পাওয়া পর্যন্ত মেয়ে হালিমা বেগম দাফনে বাধা দেন। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বোয়ালিদহ বক্সীগঞ্জ গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী কৃষক নাজির উদ্দিন ব্যাপারী সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান।
- পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ ভাই ইদ্রিস আলী লিখে নেওয়ায় বঞ্চিত হয়ে মেয়ে হালিমা বেগম বাবার জানাজা ও দাফন আটকে রাখেন।
- স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন ও সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুর রহমান বিষয়টির সামাজিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বক্সীগঞ্জ গ্রামে সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৫ বছর বয়সী কৃষক নাজির উদ্দিন ব্যাপারী। কিন্তু মৃত্যুর পরও তার শান্তিময় বিদায় মেলেনি। পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ না পাওয়ার অভিযোগে মেয়ে হালিমা বেগম বাবার মরদেহ দাফন করতে বাধা দেন। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার জন্য মাইকিং করা হলেও দুপুরের পর গড়িয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাফন জড়ানো মরদেহ বাড়ির উঠানেই খাটিয়ায় পড়ে থাকে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত নাজির উদ্দিনের এক ছেলে ইদ্রিস আলী এবং এক মেয়ে হালিমা বেগম রয়েছেন। মেয়ে হালিমার অভিযোগ, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে ভাই ইদ্রিস আলী কৌশলে সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এর ফলে তিনি পৈতৃক সম্পত্তির আইনি ও শরীয়তসম্মত অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাফনের অনুমতি দেবেন না। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছেলে ইদ্রিস আলী এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল আমিন এবং ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসে বসেন। ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমাধান অর্জিত হওয়ামাত্রই দ্রুত জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সামাজিকভাবে এই সংকটের সুরাহা না হলে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সচেতন মহল মনে করছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি কতটা বৈধ ছিল, তা ছেলে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বাংলা ট্রিবিউন-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।